বোরকা পড়া নারী
ছবি- সংগ্রহীত

হুজুরের বউ

বাবা যেদিন প্রথম জিজ্ঞাসা করেছিলো……
কি রকম ছেলে পছন্দ সেদিন লজ্জায় আমি কিছুই বলতে পারি নি…
কিন্তু,ছোট্ট পাকনা বোনটা দেখেছিলো….আমি
“হুজুরের বউ” লিখে পোষ্ট করেছি….
তাই ও চট করে বলে দিলো,আপুর হুজুর ছেলে পছন্দ।
খুব লজ্জা লাগছিলো…তবে মনে মনে খুশিও হয়েছিলাম!!
বাবা পরের সপ্তাহেই একটি হুজুর ছেলে ঠিক করেন…..পাত্রপক্ষ আমায় নাকি শুক্রবার দেখতে আসছে….ছোট বোন আমায় এসে বলল।

“শুনেই অনেক ভয় হচ্ছিলো……!!!
সারাটা সপ্তাহ অনেক চিন্তায় কেটেছ।
“শুক্রবার, বিকেলের দিকে পাত্র পক্ষ আমাদের বাড়িতে আসলো,অনেক ভয় হচ্ছিলো…..তবুও তাদের সামনে গেলাম…..পাত্রপক্ষ আমায় দেখলো…..আমিও এক পলক তাকিয়ে পাত্রকে দেখেছিলাম…..!!
“সত্যি বলতে, মাশআল্লাহ,যেমন দেখতে তেমনি আচার-ব্যবহার!!!”
আর সবথেকে ভালো লেগেছে ওনার “দ্বীনদারীতা”………
পাত্রপক্ষ বলে গিয়েছিলো
শনিবার বিকেলের দিকে তাদের মতামত জানাবে।
আমাদের বাড়ির সকলের পাত্র কে
পছন্দ হয়েছিলো।
কিন্তু পাত্রপক্ষর যদি পছন্দ না হয়!!!
তা নিয়ে সকলেই চিন্তায় ছিলো!!
“আলহামদুলিল্লাহ” ওনারা বিকেলে জানালো, আমাকে তাদের পছন্দ হয়েছে!
“পরের শুক্রবার ফাইনালি,বিয়ের তারিখ ঠিক হলো।

“বিয়ের জন্য অন্য পাঁচ টা মেয়ের মত আমাকেও বরের বাড়ি থেকে
“বিয়ের লোয়াজিমা” পাঠালো…কিন্তু একটু ব্যতিক্রম,মানে শাড়ি-ব্লাউস না পাঠিয়ে বোরকা-নিকাব পাঠিয়েছিলো।
“বিয়ের দিন নিজের মত করে সেঁজেছিলাম…….
তবে তা লুকানো ছিলো বোরকার আরালেই!!
” আমি বিয়ের আসরে বোরকা-নিকাব পরেই রওনা দিয়েছিলাম।
“দূর থেকেই দেখলাম “হুজুর” মানে ওনি সুন্নতি পোষাক পড়ে বরের আসনে বসে আছেন।
“আমি কন্যার আসনটা গ্রহন করার জন্য যখন হেটে যাচ্ছিলাম তখন অনেকেই আমার দিকে তাকাচ্ছিলো!!!
যখন ওনার পাশে গিয়ে বসলাম,তখন ওনি আমার দিকে এক অদ্ভূত দৃষ্টিতে তাকালেন!!
তার তাকানোটা একদম অস্বাভাবিক ছিলো।
” হঠাৎ….হঠাৎ…হঠাৎ” হঠাৎ….হঠাৎ…হঠাৎ…!!

ওনি উঠে গেলেন। কিছুটা দূরে গিয়ে তার বাবা কে দিয়ে আমার বাবা কে ডাকলেন পাশের রুমে!!!
কিছুক্ষন পর এসে মা আমায় ডেকে নিয়ে গেলেন!!!!
“ভেতরে গিয়ে আমি জানতে পারলাম ওনি আমাকে বিয়ে করতে চান না।।
“আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো এসব শুনে,কারন নিজের অজান্তেই যে মানুষটার প্রতি দুর্বল হয়ে গিয়েছি!!
বাবা বলল,আমার মেয়ে কে কেনো বিয়ে করবে না,সে কারণ টা কি জানতে পারি…???”
ওনি অসস্তিবোধ করছিলেন….তবুও তার ভদ্রতার খাতিরেই মনে হচ্ছিলো বলতে বাধ্য হয়েছিলো……

ওনি বললেন,
আলহামদুলিল্লাহ!! আমি ছোট থেকেই নিজেকে সব সময় হেফাজতের চেষ্টা করেছি….এবং আসা করেছি ইনশাআল্লাহ, আমি এমন একজন কে স্ত্রী করবো যে হবে “তার বাবার আদর্শ কন্যা,আমা বাবা আদর্শ পুত্রবধূ,আমার আদর্শ স্ত্রী,এবং আমার সন্তানের আদর্শ মা…

যার সাথে আমি শুধু এই ক্ষনস্থায়ী পৃথিবী কয়েক দিন সংসার করার সপ্ন দেখিনি বরং চিরস্থায়ী জান্নাতে এক সাথে অনন্তকাল থাকার সপ্ন দেখেছি….!!!

” আলহামদুলিল্লাহ!! আপনার মেয়ে কে আমার সবদিয়েই ভালো লেগেছিলো তাই বিয়েতে মত দিয়েছিলাম,যদি সেদিন তার এ দোষ আমার সামনে প্রকাশ পেতো তবে কখনই বিষয়টা বিয়ে পর্যন্ত আসতো না!!!!
বাবা আবার বললেন আমার মেয়ের দোষটা কি????

♥

এবার ওনি যা বললেন তা শুনার পর যেনো আমার পা থেকে মাটি সরে গেলো….মাথার উপর আকাশ টা ভেঙে পড়লো,আর অসহায় দুটি চোখ দিয়ে যেনো সাগর বয়ে গেলো!!!
ওনি বললেল,আমার বলতে কষ্ট হলেও বলতে হলো চাচা!!!
“আপনার মেয়ে ব্যভিচারীদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত”……….
বাবা অনেক রেগে গিয়ে বললেন,তোমার সাহস তো কম নয় আমার নিষ্পাপ মেয়ের নামে এমন মিথ্যাচার করছো!!!

তখন তিনি বললেন আমি সত্যি বলছি, তার প্রমান আমি পেশ করছি,
1)রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মেয়েদের সুগন্ধি ব্যবহার করে বাইরে যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
ﻛُﻞُّ ﻋَﻴْﻦٍ ﺯَﺍﻧِﻴَﺔٌ ﻭَﺍﻟْﻤَﺮْﺃَﺓُ ﺇِﺫَﺍ ﺍﺳْﺘَﻌْﻄَﺮَﺕْ ﻓَﻤَﺮَّﺕْ ﺑِﺎﻟْﻤَﺠْﻠِﺲِ ﻓَﻬِﻰَ ﺯَﺍﻧِﻴَﺔً.
‘প্রত্যেক চক্ষুই ব্যভিচার করে থাকে। আর মহিলা যদি সুগন্ধ ব্যবহার করে কোন (পুরুষদের) মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তবে সে ব্যভিচারিনী’।[আবূ দাউদ/2688]

2)আবূ হুরাইরা রা: বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,
« ﻣَﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓٍ ﺗَﺨْﺮُﺝُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﻳَﻌْﺼِﻒُ ﺭِﻳﺤُﻬَﺎ ﻓَﻴَﻘْﺒَﻞُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺻَﻠَﺎﺗَﻬَﺎ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﺮْﺟِﻊَ ﺇِﻟَﻰ ﺑَﻴْﺘِﻬَﺎ ﻓَﺘَﻐْﺘَﺴِﻞَ »
“যদি কোনো নারী মাসজিদে গমন করার সময় তার সুগন্ধি প্রসারিত হয় তবে আল্লাহ তার সালাত কবুল করবেন না, যতক্ষ ণ না সে তার বাড়িতে ফিরে যেয়ে গোসল করে।” [বাইহাকী/৬০৯]

“হাদিস পেশ করার পর ওনি বললেন, যখন আপনি সুগন্ধি ব্যবহার করে সকলের নিকট দিয়ে হেঁটে এসেছেন তখন সেই ঘ্রানে অন্য পুরুষ মোহিত হয়ছে!!!
তাই আপনি অবশ্যই ব্যভিচারিদের অন্তর্ভূক্ত!! “আমি কি আপনার প্রতি মিথ্যাচার করেছি….???
তখন আমার চিৎকার
করে বলতে ইচ্ছে করছিলো আমি ব্যভিচারী না!!!!
কিন্তু বলার কোনো উপায় ছিলো না কারন….রাসূল (সঃ) এর হাদিস সত্য…এটাকে মিথ্যা বা ভুল বলার ক্ষমতা আমার নেই…….!!!
” তখন নিজের আত্না যেনো বলে উঠলো হ্যা,সত্যিই আমি ব্যভিচারী………

“যখন ওনি চলে যাচ্ছিলো,আমি শুধু একটা কথাই বললাম,আমি অনুতপ্ত!!
ক্ষমা কি করে দেওয়া যায়না……???
ওনি বললেন,অনুশোচনার আগুনো নিজেকে দগ্ধ করে বিশুদ্ধ করুন…ইনশাআল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দিবেন!!!!
” মেয়েটি তার ভুল বুঝতে পারায় ছেলেটি মেয়েটিকে মাফ করে দিলেন পরে তাদের বিয়েটা আলহামদুলিল্লাহ সম্পুর্ন হল!!!!

#গল্পের_শিক্ষা ::::
1)ইসলামের কোনো বিধানকে ছোট করে, দেখা আর নিজেকে অনেক বড় বিপদে ফেলা একই…….কথা।

#হে ……বোন…….তুমি আজ অনেক ব্যস্ত তাই তোমার বোরকাটা দৌত করতে পারনি।…কাল যখন বের হবার সময় দেখলে বোরকা টায় ঘামের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এই গন্ধ বোরকা পড়ে গেলে লোকে কি বলবে ভেবে যদি একটু সুগন্ধি ব্যবহার কর বোন তবে তুমি রাসূলের ভাষ্য মতে….ব্যভিচারিনী….!!

#হে বোন যদি বোরকা-হিজাব পরিহিতা নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে বের হলে ব্যভিচারী হয় তবে যে বোন বোরকা-হিজাব না পড়ো বেপর্দায় সুগন্ধ ব্যবহার করে বের হয় তাহলে সে কোন কাতারের একটু ভেবে দেখ

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here