প্র্যাকটিসিং মুসলিম বোঝার আগে মডারেট মুসলিম
প্র্যাকটিসিং মুসলিম বোঝার আগে মডারেট মুসলিম

ধরুন, আজ এশার সালাতে আপনি একশ জন মুসল্লী পেলেন। তাদের মধ্যে ত্রিশ জন হাজী পেলেন। আরো বিশজন পেলেন নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায়কারী।

কিন্তু এবার পার্সেন্টেজ টা হিসেব করেন, এদের সবাই নামাজ আদায়কারী কিন্তু এদের মধ্যে কয়জন এমন আছে যে,

– মিষ্টভাষী, মিশুক, লোকের সাথে সদাচরনকারী?

– কতজন পরের হক সম্পর্কে সচেতন? কতজন তাদের কন্যা বা বোনকে পৈত্রিক সম্পত্তিতে ঠকায়নি?

– কতজন নামাজী পিতামাতা সন্তানের সময় মত বিয়ে দেবার ব্যাপারে কনসার্ন?

– কতজন মেয়ের বিয়ের দেবার সময় দ্বীনদারিতার বাইরে পাত্রের অর্থ সম্পদকে প্রাধান্য দেয়নি?

– কতজন মনে মনে আশা করেনা যে জামাই চরিত্রবান তেমন না হলেও গাড়িওয়ালা, বাড়িওয়ালা হোক?

– কতজন ছেলের বিয়ে দেবার সময় মনে মনে মেয়ে পক্ষ থেকে যৌতুক আশা করেনা?

হয়ত মুখ ফুটে বলেনা কিন্তু মনে মনে আশাও করেনা যে মেয়েপক্ষ কিছু দিক?

– সালাত আদায়কারী অনেক পুরুষইই পাবেন, কিন্তু এমন কয়জনকে পাবেন বউ পেটায়না? বউয়ের হক আদায় করে?

নিকাব জিহাব হাত পা মোজা করা অনেক নারী আছে, কিন্তু এমন কয়জন আছে যে স্বামীর প্রতি জলুম করেনা? ফেমিনিজমে জড়িত না?

.
মুসল্লী, সায়েম, হাজ্বী অনেকেই আছে কিন্তু এমন কয়জন আছে যে ফ্রিমিক্সিং বিয়ের প্রোগ্রাম করেনা নিজের পরিবারের কারোর বিয়ের দেবার সময়?

– কতজন জন্মদিনের পার্টিতে যায় না? শিরকের প্রোগ্রামে যায় না?

– কতজন এমন পাওয়া যাবে যে দুনিয়ার থেকে আখেরাতকে প্রাধান্য দেয়?

– কতজন রয়েছে যে সাধ্যমত সুদ ঘুষ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে? এই পার্সেন্টেজ টা কত?

বরং অনেক নামাজীরও তো স্বপ্নই থাকে সুদের কারবারে কিংবা হারাম প্রোডাক্ট উতপাদনের কোম্পানিতে ক্যারিয়ার গড়া !

– কতজন পাওয়া যাবে এমন যে ক্ষমতা থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহার করেনা? অপরাজনীতির সুযোগ নেয়না?

– যুবক নামাজীদের মধ্যে কতজন পাওয়া যাবে যে বেআইনি ভাবে হলে সিট দখল করেনা? জুনিওরদের র‍্যাগ দেয়না?

– যুবতী নামাজ পর্দানশীলদের মধ্যে কতজন পাওয়া যাবে যে ক্লাসে পরিবারে গাইরে মাহরামদের সাথে হাসি ঠাট্টায় মেতে উঠেনা?

যে ব্যাপারটা প্রমাণিত যে পর্দা করে সম্ভব নয় সেই ব্যাপারে আগ্রহী হয়না?

বরং যা ফরজ নয় তার জন্য ফরজ ইস্যু (পর্দার বিধানে) শিথিলতার মনগড়া ফতোয়া চায় এবং দেয়।
.
কত বাবা তো আসরের সালাত শেষ করে মেয়ের নাচের/ গানের প্রোগ্রামে এটেন্ড করে।

অথচ হয়ত সালাতে তিলাওয়াত করে এলো “যারা ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার পছন্দ করে, তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে”

.
বাসায় সকাল বেলা হুজুর এসে আরবি শেখায় যাচ্ছে, বিকেল বেলা গানের শিক্ষক এসে গান শেখাচ্ছে। কিছু বলতে গেলে যুক্তি ভাই জীবনে সব কিছুর ই দরকার আছে।
.
হজ্জ করে এসেছেন অথচ এত ব্যবহার খারাপ, এত রাগী যে মানুষ সালাম দিতে ভয় পায়।

গীবত থেকে আমরা কতজন নিরাপদ? এই পার্সেন্টেজ টা কত?

.
মডারেট মুসলিমরা আল্লাহ তাআলার দ্বীনকে পরিপূর্ণ ভাবে মানতে রাজি নয়; বরং তারা দীনের কেবল ততটুকু মানতে চায়, যতটুকু তাদের মনঃপুত হয়, যতটুকু মানতে তাদের কোনো কষ্ট-ক্লেশ সইতে হয় না কিংবা ত্যাগ-তিতিক্ষা করতে হয় না।

এবং তা-ও কেবল সে উপায়েই মানতে চায়, যা তাদের সমাজে প্রচলিত কিংবা তাদের পূর্বসুরি বাপ-দাদাদের থেকে প্রাপ্ত। এ ছাড়া আল্লাহ তাআলার অন্যান্য বিধান গুলোকে তারা অবলীলায় প্রত্যাখ্যান করে।

____________________

সালাত আদায়কারীর সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে ফরজ সাওমের পাশাপাশি, নফল সাওম পালনকারীরও। হজ্জেও আগ্রহ বাড়ছে। মানুষ টাকা জমাচ্ছে। হজ্বে যাচ্ছে। না পারলে অন্তত উমরাহ তে যাচ্ছে।

সার্চ দিলে দেখা যাবে তাহাজ্জুদ গোজারীর সংখ্যাও বাড়ছে।

.
কিন্তু কেন তবুও সামগ্রিক ভাবে খারাপ কমছেনা?
কেন সামগ্রিক ভাবে কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে সমস্যা গুলোর সমাধান হচ্ছেনা? কেন দুয়া গুলো কবুল হচ্ছেনা?

একের পর এক সমস্যা লেগে আছে। কি ব্যক্তিগত জীবনে, কি পারবারিক জীবনে, কি সামাজিক জীবনে! শান্তি নেই।

মোট কথা কেন রহমত পাওয়া যাচ্ছেনা।

.
কারণ? দ্বীনের ‘প্র্যাকটিস’ বাড়ছে না।

মুসলিম বাড়ছে তবে প্র্যাক্টিসিং মুসলিম বাড়ছে না। প্র্যাকটিসিং মুসলিম বোঝার আগে মডারেট মুসলিম টার্মটা ভালো ভাবে জানা লাগবে।

মডারেট মুসলিম হলো নামধারী মুসলিম যারা ইসলামকে প্রতিরক্ষার নামে একে একে ইসলামের মুল স্তম্ভগুলোকেই ধ্বংস করা শুরু করে দেয়। পশ্চিমাদের দাসত্ব যাদের মনে গেঁথে রয়েছে।
.
এদের মানসিক দাসত্ব এমন এক পর্যায়ে রুপ নিয়েছে যখন তারা পশ্চিমাদের কথা বিনাবাক্যে এবং কোন প্রশ্ন ছাড়াই মেনে নিতে শুরু করেছে, তা সে কথা যতই কোরআন আর হাদিস বিরোধী হোক না কেন; এমনকি পশ্চিমাদের ইসলামি ইতিহাস, শরিয়া ও কোরআনের বিরোধিতার কারনে তারা এসব নিয়ে লজ্জিত বোধ করা শুরু করে।

শুধু পশ্চিমা নয়, এরা ব্যক্তিজীবনে মুশরিকদের মত, কাফির ও মুনাফিকদের মত আচরণ লালন করে। এরা কোরআন ও হাদিসের সুবিধেমত অংশ গুলো মানে।
.
আল্লাহ তা’লা বলেন-

“তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশে অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা-গঞ্জনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন। এরাই সে সব লোক যারা পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করেছে। অতএব এদের শাস্তি লঘু হবে না এবং এরা সাহায্যও পাবে না।।“ [সুরা বাকারাহ ৮৫-৮৬]
.
প্র্যাকটিসিং মুসলিম তারা যারা নিয়মিত মসজিদে যাবে।
.
নামাজ-কালাম, রোযা, হজ্জ, যাকাত ও জিহাদসহ ধর্মের অন্যান্য কাজগুলো পরিপূর্ণ ভাবে পালন করবেই এবং ইসলামের কোনো আইনের বিরোধিতা করবে না, জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে ইসলাম প্র‍্যাকটিস করবে। আবার বলি “প্রতিটা ক্ষেত্রে”

জীবনের প্রতিটা স্টেপ ফেলার আগে তারা চিন্তা করে দ্বীন কি বলে আমার এই স্টেপ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা দেখছেন।
.
এই গ্রুপটাই এখন ডেন্জারাস পয়েন্টে আছে। বর্তমানে সমাজে সব থেকে সংখ্যা লঘু এই প্র্যাকটিসিং মুসলিমরা।
.
[লিখেছেন শাহ মুহাম্মদ তন্ময় ভাই]

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here