‘মমতার দাওয়াই: মনে সাহস রাখবেন,-টাঙ্গাইলের সখীপুরের ইউএনও

0
91

টাঙ্গাইলের সখীপুরের ইউএনও আসমাউল হুসনা আতঙ্কের বিরুদ্ধে সুন্দর এক দাওয়াই বের করেছেন। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ে ‘অতিসচেতন’ কিছু মানুষের আতঙ্কজনিত ‘বিদ্বেষ’কে তিনি কাউকে কষ্ট না দিয়ে সুন্দরভাবে সহানুভূতির খাতে বইয়ে দিতে চেয়েছেন। কথায় নয়, কাজে।

সখীপুরের একটি পরিবারের পাঁচজনের দেহে করোনাভাইরাস আক্রমণ করলে যথারীতি তাঁদের বাড়িটি লকডাউন করা হয়। কিন্তু ভয়ের বশে এলাকার অনেকে সহানুভূতির বদলে পরিবারটিকে ঘৃণা করা শুরু করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে অজস্র ফোন আসে, আসে আতঙ্কিত মানুষের বিবেকবর্জিত সংলাপ। বেশির ভাগই পরিবারটিকে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার অনুরোধ করেন। ইউএনও সাড়া দেন। তিনি ওই বাড়ির সামনে এক ডালি ফল, দুই সপ্তাহের খাবারসহ একটি চিরকুট রেখে যান। তাতে লেখা, ‘মমতার দাওয়াই: মনে সাহস রাখবেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আপনার পাশে আছেন।’

যখন করোনার চেয়ে মারাত্মক হয়ে ওঠে আতঙ্কিত মানুষের ঘৃণা-বিদ্বেষ, তখন কথার বদলে মমতার একটা দৃষ্টান্তই ছিল দারুণ প্রয়োজন। ইউএনও আসমাউল হুসনা সেটাই করেছেন। মানুষকে দেখিয়েছেন, সতর্কতা নিয়েও কীভাবে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। হাজারো বাণীবর্ষণের চেয়ে ‘মমতার দাওয়াই’ যে বেশি কার্যকর, তিনি তা বুঝিয়ে দিলেন। যাঁরা না বুঝে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আরও আক্রমণ করতে চান, তাঁদের উদ্দেশে নিজের ফেসবুকের দেয়ালে আসমাউল হুসনা লিখে রেখেছেন, ‘অতি সচেতনতার কারণে যাঁরা মনুষ্যত্ব হারিয়েছেন’, তাঁদের প্রতি আহ্বান রেখে বলেন, ‘মানবিক হোন, [আক্রান্ত ব্যক্তি] বৈশ্বিক দুর্যোগের শিকার, অপরাধী নয়..!’

মানুষ ভাইরাসের শিকার হয়। মানুষ জীবাণু নয়, জীবাণুর শিকার—এই সাধারণ বোধ আতঙ্কের দশায় হারিয়ে যায়। ভাইরাসের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি আপাতভাবে সুস্থ মানুষের দায়ী করার মনোভাব লালন করতে দেখা যায়। তাদের সারিয়ে তোলায় সাহায্য না করাই বরং আত্মঘাতী, কেননা অসুস্থকে ঘৃণা করলে তো আর ভাইরাস পালিয়ে যায় না।

প্রশাসনের সর্বস্তরে এ উপলব্ধি আজ নিদারুণ প্রয়োজন। তাঁরা সচেষ্ট হলে মানুষের আতঙ্কজনিত ঘৃণা-বিদ্বেষ সহানুভূতির দিকে ঘুরে যেতে পারে। সাধারণ সময়ে যা-ই হোক, করোনাকালীন অবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ে একজন ইউএনও অনেক কিছু করতে পারেন। স্থানীয় সরকারের চেয়ারম্যান, কাউন্সিলররা তৃণমূলের মানুষের ভরসা হতে পারেন। আসমাউল হুসনার দৃষ্টান্তে তাঁরা যদি অনুপ্রাণিত হন, তাহলেও অনেক ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here